হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ৯ কেজি ৩৩০ গ্রাম। কাস্টমসের হিসাবে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় ফ্লাইটটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই সোনা জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানতে পারেন, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা ‘FZ523’ ফ্লাইটে বড় একটি সোনার চালান রয়েছে।
তথ্য পাওয়ার পর রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। ততক্ষণে ফ্লাইটের সব যাত্রী বিমান থেকে নেমে গেছেন। ফলে যাত্রীশূন্য অবস্থায় উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি শুরু করা হয়।
রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে বিমানের ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় ১৯এ নম্বর সিটের নিচে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান কর্মকর্তারা।
পরে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেট খুলে পাওয়া যায় ৮০টি সোনার বার। ওজন করে দেখা যায়, সোনার মোট ওজন ৯.৩৩ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সোনার কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর এড়িয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সোনার বারগুলো বিমানের সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
কাস্টমসের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে সোনার চালানটি বিমানবন্দরের বাইরে পাচার হওয়ার আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিপুল মূল্যমানের এই সোনার চালান উদ্ধারের পর তা বিমানবন্দরের কাস্টমসের সংরক্ষিত ভল্টে নিরাপদে রাখা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও স্থায়ী আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী সময়ে সোনাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তবে সোনার চালানটি কারা বিমানে রেখে গিয়েছিল বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের এই ঘটনায় বিমানবন্দরে চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি আবারও আলোচনায় এসেছে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *