বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখেছেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে চার দিনের ম্যাচে অপরাজিত ৩৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
হৃদয়ের এই কীর্তিতে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কারণ এত দিন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল তাঁর দখলে। ২০২০ সালের জাতীয় ক্রিকেট লিগে অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছিলেন তামিম। এবার সেই রেকর্ড ১৬ রান বাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন হৃদয়।
হৃদয়ের ঐতিহাসিক ইনিংসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান তামিম। তিনি বলেন, যে কোনো মাঠে ও যে কোনো পর্যায়ে ৩৫০ রানের ইনিংস বিশেষ কিছু। আর সেটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হওয়ায় কীর্তিটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
নিজের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন তামিম। তাঁর মতে, রেকর্ড তৈরি হয় একসময় ভেঙে যাওয়ার জন্যই। নিজের রেকর্ডটি হৃদয় ভাঙায় তিনি বরং আনন্দিত।
হৃদয়ের এই ইনিংসকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না তামিম। তাঁর মতে, বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথমবার ৩৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা দেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারও একটি প্রতীক।
পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত অবস্থান তৈরি করে বাংলাদেশ ‘এ’। দলের অধিনায়ক হৃদয় শেষ পর্যন্ত ৪৫৫ বল মোকাবিলা করে ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২৫টি চার ও ৬টি ছক্কা।
হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৬৪ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানও হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোনো সফরকারী ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এর আগে ছিলেন রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল। ২০০৭ সালে রকিবুল ৩১৩ রান এবং ২০২০ সালে তামিম অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছিলেন। এবার ৩৫০ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে দুজনকেই ছাড়িয়ে গেলেন হৃদয়।
তবে রেকর্ড হারিয়েও তামিমের প্রতিক্রিয়া ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে বেশি গর্বের। নিজের পুরোনো রেকর্ড নতুন প্রজন্মের একজন ব্যাটসম্যান ভেঙে দিয়েছেন—এতেই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার জায়গাটা আরও বড় হয়ে উঠেছে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *