ব্যাটিংয়ে ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর বোলিংয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। টাইগারদের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে আফগানিস্তান। ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি। শিরোপার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।
বুধবারের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ ছিল কঠিন। ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর বোলিংয়েও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি দলটি। ফলে বড় জয়ের বদলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানিস্তান
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। দলীয় ২৬ রানে তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ৬ রান করে ফেরেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এরপর মাত্র ৪ রান করা সেদিকুল্লাহ আতালকেও সাজঘরে পাঠান তাসকিন। ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানরা।
তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও অধিনায়ক রহমত শাহ ৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। দলীয় ৯৫ রানে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করে আউট হন ইব্রাহিম।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শহীদি। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
৯০ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত শাহ। অন্যদিকে শহীদি ৫৪ বলে ৪টি চার মেরে অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। ৩৫.৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানরা।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। মোস্তাফিজুর রহমান ৬ ওভারে ৩২ রান খরচায় পান একটি উইকেট। অন্য বোলাররা আফগান ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামাতে পারেননি।
ইমন-সাইফের জুটিতে কিছুটা লড়াই
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বড় সংগ্রহ গড়ার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৯৬ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। সাইফ হাসান করেন ৮২ বলে ৪১ রান।
পঞ্চম উইকেটে ইমন ও সাইফের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি ফিরিয়েছিল। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই বড় বিপর্যয় এড়িয়ে লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করানোর চেষ্টা করে দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পুঁজি আফগানিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ফাইনালে আফগানিস্তানের সঙ্গী জিম্বাবুয়ে
বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরাজয়ে ফাইনালে খেলার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে জিম্বাবুয়েরও।
ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং প্রতিপক্ষের রান তাড়া করার সময় কার্যকর বোলিং করতে ব্যর্থ হওয়াই বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে টাইগারদের।
এখন ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। আর বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ হয়ে থাকল ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার আরেকটি উদাহরণ।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *