আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো সদস্য দেশগুলোর জন্য অন্যতম বড় আয়ের উৎস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বাবদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাওয়ার কথা ছিল আনুমানিক ৩ থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা। বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে এই অর্থ পুরোপুরি হাতছাড়া হবে।
শুধু বোর্ড নয়, সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয়ে। একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেই একজন ক্রিকেটার ন্যূনতম আড়াই লাখ টাকা ম্যাচ ফি পান। এর সঙ্গে যোগ হয় পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি। বিশ্বকাপে ভালো করলে একটি দলের মোট আয় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে, যা এবার আর পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
২০২৪ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির পরিমাণ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়া দলগুলোকেও কয়েক লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ ছিল। বাংলাদেশ অংশ না নিলে এসব সম্ভাব্য আয় পুরোপুরি হারাতে হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ম্যাচ না থাকলে সম্প্রচারকারী সংস্থা ও স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচ সাধারণত ভালো দর্শক টানে। ম্যাচ সংখ্যা কমলে টিআরপি ও বিজ্ঞাপন আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মাঠের বাইরের এই আর্থিক ক্ষতির হিসাবই বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে আসবে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *