সিলেটের তামাবিল, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক নোম্যান্স ল্যান্ডের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী উভয় দেশের মধ্যে দেড়শ গজ নোম্যান্স ল্যান্ড থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিভিন্ন সময় সাব-পিলার সরিয়ে এবং জরিপের নামে বাংলাদেশি ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এবং পরে ২০১৫ সালে মুজিব–ইন্দিরা চুক্তির আওতায় সিলেট সীমান্তের অন্তত ২০০ একর জমি ভারতের দখলে চলে যায়। এর মধ্যে রয়েছে হাওর, কৃষিজমি, চারণভূমি ও ভাইরাল মাঠ হিসেবে পরিচিত নলজুড়ি বিলের খেলার মাঠ। অথচ বাংলাদেশ এ চুক্তির বিনিময়ে এক ইঞ্চি জমিও পায়নি।
২০০৯ সালে পাদুয়া ও প্রতাপপুর এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সে সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও কেন্দ্রীয় নির্দেশে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিজিবি। স্থানীয়দের মতে, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সীমান্তে এই ভূমি হারাতে হয়েছে।
এখনো তামাবিল শুল্ক বন্দরের পাশে ভারতের সীমান্ত মাত্র ১৫–২০ গজ দূরে। অনেক এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকদের জমিতে চাষ করতে দেওয়া হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছিটমহল বিনিময় ও জরিপের নামে সীমান্ত পুনর্নির্ধারণ করে বাংলাদেশি ভূখণ্ড ভারতের অংশে দেখানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮১ কিলোমিটার সীমান্ত সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তব চিত্র কাগজে-কলমের সীমানার সঙ্গে মিলছে না, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *