গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফের আগ্রাসী অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’—কারণ যুক্তরাষ্ট্র এটি না নিলে রাশিয়া ও চীন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই বরফাচ্ছাদিত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে “সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে” যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তাঁর মতে, ইজারা বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি যথেষ্ট নয়, মালিকানা থাকলেই প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের সব রাজনৈতিক দল। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্কের নেই—এ অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।
ডেনমার্কও ট্রাম্পের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান রাসমুস জারলোভ বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক অভিযান ন্যাটো জোটের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, ন্যাটোভুক্ত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হবে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও ধ্বংসাত্মক।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে দেশটি সেখানে সেনা মোতায়েন করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে সামরিক উপস্থিতির বৈধ সুযোগ থাকলেও মালিকানা দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সংকট তৈরি করছে।
এর আগে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথমবার গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *