🔴 সর্বশেষ

প্রতিদিন বাংলা | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ, জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক খবর

Header
collapse
...

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণচুক্তি

সেপ্ট 03, 2026  প্রতিদিন বাংলা  145 views
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণচুক্তি

দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ১ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর আগে গত জুনে আইডিবির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দেয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় তিন গুণে উন্নীত হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা সম্ভব। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এর সঙ্গে আরও ৩০ লাখ টন সক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে মোট পরিশোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ লাখ টন বছরে।

ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশনের (ইআরডি) নথি অনুযায়ী, আইডিবির অর্থায়ন দুটি প্যাকেজে দেওয়া হবে। ‘ফরওয়ার্ড লিজ-১’-এর আওতায় ৫২০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং ‘ফরওয়ার্ড লিজ-২’-এর আওতায় ৪৮৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম প্যাকেজের সঙ্গে ৬ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদানও রয়েছে।

ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। এরপর বাকি ১৫ বছরে ছয় মাস অন্তর কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে ইআরডির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত অর্থায়ন ব্যয়ের তুলনায় এ ঋণের ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন প্রায় ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এ ব্যয়ে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট পেট্রোলিয়াম চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। নতুন ইউনিট চালু হলে অভ্যন্তরীণভাবে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

প্রকল্পের আওতায় ইউরো-৫ মানের পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪ লাখ টন ফার্নেস অয়েল, ৬০ হাজার টন এলপিজি, ৬ লাখ টন ইউরো-৫ পেট্রল, ১১ লাখ টন ইউরো-৫ ডিজেল, ২ লাখ টন লুব বেস অয়েল এবং ৫ লাখ টন জেট ফুয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকেই এ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৩ সালে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ব্যয় ও পরিকল্পনায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়।

২০২২ সালে বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি আবার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে বিদেশি অর্থায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এবার সরকারি অর্থ ও বিপিসির নিজস্ব তহবিলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আইডিবির বড় অঙ্কের ঋণ।

চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে এর বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন।

সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ২৬ দিন ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে নতুন করে অপরিশোধিত তেল আসার পর ৮ মে আবার উৎপাদন শুরু হয়। ওই ঘটনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকিও নতুন করে সামনে আনে।

দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়িত হলে শুধু তেল পরিশোধনের সক্ষমতাই বাড়বে না, বরং জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Share:

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * দিয়ে চিহ্নিত

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy