সারাদিন রাস্তায় বাইক নিয়ে ঘুরছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন—কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যাত্রী পাচ্ছেন না। এমনই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অনেক রেগুলার বাইক রাইডার।
রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে মূলত দুই ধরনের বাইক রাইডার দেখা যায়। একদল রাইডার এটিকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়ে প্রতিদিন জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে, অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পাশাপাশি পার্টটাইম রাইড শেয়ারিং করেন।
এই পার্টটাইম রাইডারদের কারণে রেগুলার বাইক রাইডারদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেহেতু পার্টটাইম রাইডাররা মাস শেষে অন্য চাকরি থেকে নির্দিষ্ট বেতন পান, তাই অনেক সময় কম ভাড়াতেও যাত্রী পরিবহন করতে রাজি হন। ফলে যাত্রীরা প্রকৃত ও ন্যায্য ভাড়া সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং রেগুলার রাইডারদের সঙ্গে এক ধরনের ভাড়া বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, রেগুলার বাইক রাইডারদের প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ চলে যায় জ্বালানি খরচ, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভিসিং, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং অন্যান্য খরচে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাস্তায় বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আধিক্য। ফলে যাত্রী পাওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেক রেগুলার রাইডার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত রাইড পাচ্ছেন না। দিন শেষে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে জ্বালানি, খাবার, বাইকের খরচ এবং পরিবারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রেগুলার বাইক রাইডারদের জন্য রাইড শেয়ারিং কোনো শখের কাজ নয়; এটি তাদের জীবিকা। তাদের আয় নির্ভর করে প্রতিদিন কতগুলো রাইড পাচ্ছেন এবং সেই রাইড থেকে কতটুকু প্রকৃত উপার্জন করতে পারছেন তার ওপর।
তাই রাইড শেয়ারিং খাতের বাস্তব সমস্যা, ন্যায্য ভাড়া, জ্বালানি খরচ এবং রেগুলার রাইডারদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। রেগুলার রাইডারদের জন্য ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত ভাড়া নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এই পেশার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ আরও বড় সংকটে পড়বেন।
📢 রেগুলার বাইক রাইডারদের কণ্ঠস্বর শোনা হোক। তাদের বাস্তব সমস্যা ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *