চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে খাগড়াছড়িতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। জেলায় এবার পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলাগুলোর মধ্যেও পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পার্বত্য এ জেলা।
এ বছর খাগড়াছড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮ হাজার ৬৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে জেলায় এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এবার জেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল এবং তারাবানিয়া হাই স্কুল।
এর মধ্যে ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল থেকে ১৭ জন, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল থেকে ১৯ জন এবং তারাবানিয়া হাই স্কুল থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়। তবে তিন প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে শূন্য পাসের ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সংকট দূর করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র সিকদারের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাওয়াও এবারের ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। করোনা পরিস্থিতি, অটো পাস এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ভালো ফলাফল ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের আবারও নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরতে হবে। পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার বিকল্প নেই।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *