দেশে ওষুধের বাজার এখন গভীর সংকটে। একদিকে ওষুধের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে উঠেছে। ফলে রোগী ও চিকিৎসক—উভয়ই চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে ভেজালের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে সেগুলোর ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও পুরোপুরি বন্ধও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে অ্যালবুমিন ইনজেকশন, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এবং চেতনানাশক ওষুধে ভেজাল শনাক্ত হওয়ার ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী Nature–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ১০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক নকল, ভেজাল বা নিম্নমানের। ঢাকার বাইরে এই হার প্রায় দ্বিগুণ—প্রায় ২০ শতাংশ। গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু নকল ওষুধে উপাদান হিসেবে আটা, ময়দা ও সুজি পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৪ সালে ঢাকা ও বরিশালে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ প্রায় ৫ লাখ নকল অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ধার করলেও, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এসব ওষুধ আবারও বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল ও ভেজাল ওষুধ শুধু রোগ নিরাময়ে ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
২০২৩ সালে নকল ও ভেজাল ওষুধ ঠেকাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস হলেও এখন পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই। ফলে এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
নকল ও ভেজাল ওষুধের বিস্তারকে তারা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *