কিডনি মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। শরীরের রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও খনিজের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভিটামিন ডি ও প্রোটিনের বিপাকে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র ছাঁকনি রয়েছে, যা রক্তকে পরিশোধন করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
তবে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুখবর হলো—কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে কিডনিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
🥬 বাঁধাকপি
ভিটামিন কে, সি, বি৬, ফাইবার ও অল্প পটাশিয়াম সমৃদ্ধ বাঁধাকপি কিডনির জন্য নিরাপদ সবজি। ডায়ালাইসিস রোগীরাও এটি সালাদ বা রান্না করে খেতে পারেন।
🥦 ফুলকপি
ফুলকপি ভিটামিন সি ও ফাইবারে ভরপুর। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে এবং কিডনির ওপর চাপ কমায়।
🧄 রসুন
রসুন প্রদাহ কমায় ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
🧅 পেঁয়াজ
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ পেঁয়াজ রক্তনালি পরিষ্কার রাখে এবং কিডনির পাথর প্রতিরোধে সহায়ক।
🍎 আপেল
উচ্চ ফাইবার ও প্রদাহনাশক উপাদানসমৃদ্ধ আপেল কিডনি সুস্থ রাখতে কার্যকর ফল হিসেবে পরিচিত।
🍓 স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরিতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কিডনির পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রকেও সুরক্ষা দেয়।
🍒 চেরি
চেরি প্রদাহ কমায় এবং কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী ফল হিসেবে বিবেচিত।
🍇 লাল আঙুর
লাল আঙুরে থাকা উপাদান কিডনির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে। পরিমিত পরিমাণে আঙুর বা আঙুরের রস উপকারী।
🥚 ডিমের সাদা অংশ
উচ্চমানের প্রোটিন ও কম ফসফরাস থাকার কারণে ডিমের সাদা অংশ কিডনির জন্য নিরাপদ।
🐟 মাছ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ কিডনির প্রদাহ কমায়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ বেশি উপকারী।
🫒 অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং কিডনিকে সুরক্ষা দেয়।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনি সুস্থ রাখার অন্যতম চাবিকাঠি।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *