কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী এলাকায় পরিত্যক্ত লোহা ভেবে ১৭ কেজি ওজনের একটি আর্টিলারি শেল ভাঙারি দোকানির কাছে বিক্রির ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আসমত উল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় পাখি খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ঘরে একটি ভারী লোহার বস্তু পড়ে থাকতে দেখতেন তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিকে পরিত্যক্ত লোহা ভেবে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন পাখি খাতুন। গত সপ্তাহে এক ভাঙারি ব্যবসায়ী বাড়িতে এলে ৩০ টাকা কেজি দরে ১৭ কেজি ওজনের বস্তুটি বিক্রি করেন তিনি। তবে দুই দিন পর ভাঙারি ব্যবসায়ী বস্তুটিকে বোমা জাতীয় কিছু মনে করে আতঙ্কিত হয়ে তা আবার বাড়িতে ফিরিয়ে দেন।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে সেনাবাহিনীকে জানায়। খবর পেয়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটের ১৭ সদস্যের বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি একটি পুরোনো ও শক্তিশালী অবিস্ফোরিত মর্টার শেল, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। পরে বিকেল ৩টার দিকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেলটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দ হলেও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুরো অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *