কী থাকছে সরকারের ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনায়
আমদানিনির্ভরতা কমানো, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিকায়ন—এসব লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ১০ বছরের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে সরকার।
‘আমদানির ফাঁদ’ থেকে দেশকে বের করে টেকসই, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক সমাবেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপনের কথা জানান।
সরকার মনে করছে, বিগত দেড় দশকের অপরিকল্পিত নীতি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
বিশেষ করে ডলার সংকটের সময়ে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে।
এ অবস্থায় নতুন পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি কমানো, ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্মার্ট গ্রিড তৈরি, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং কৃষি ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আমদানিনির্ভরতা কতটা
বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় ৭৩ শতাংশ আসে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে। বাকি প্রায় ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ ঘাটতি পূরণ করা হয় বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি দিয়ে। সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১০ সালের দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জ্বালানি—বিশেষ করে বিদেশি কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। বর্তমানে রামপাল, মাতারবাড়ী ও পায়রার মতো বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজি ও তেলের ব্যবহারও বেড়েছে।
সরকারি প্রক্ষেপণ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধানকে পরিকল্পনার প্রথম সারিতে রাখা হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের জন্য বড় সুযোগ
নতুন পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তেল, গ্যাস ও এলএনজি আমদানির পথ উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং দেশের বাজারে বিপণনের সুযোগ দিতে একটি অভিন্ন নীতিমালা বা ‘কমন পলিসি ২০২৬’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ব্যবহার করে সরকারের বাল্ক আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক বড় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিন এনার্জি খাতেও বড় ও টেকসই বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনার উদ্যোগ রয়েছে।
১০ বছরে গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য
পেট্রোবাংলার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সাল নাগাদ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বেড়ে ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হতে পারে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দৈনিক ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। শুধু নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অন্তত ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ১৫০ কোটি ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা ২০২৮ সালের মধ্যে স্থলভাগে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ১০০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স একাই ৫২ থেকে ৬৮টি কূপ খননের দায়িত্ব নিতে চায়। এর আগে ২০২২ সালে নেওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার উদ্যোগ রয়েছে।
বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, গভীর কূপ খনন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অফশোর ব্লকে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য বিডিং রাউন্ড আয়োজনের উদ্যোগও রয়েছে।
গ্যাস অনুসন্ধানে কত বিনিয়োগ প্রয়োজন
গ্যাস অনুসন্ধান ও গভীর কূপ খনন ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সম্প্রতি বাপেক্সের নেওয়া তিনটি গভীর কূপ—শ্রীকাইল ডিপ, মোবারকপুর ডিপ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ খননের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। কূপের ধরন ও গভীরতা অনুযায়ী প্রতিটি কূপ খননে গড়ে ২৫০ থেকে ৩৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। সে হিসাবে ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল বা জিডিএফ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনুসন্ধান ও খননে ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ওই তহবিল প্রায় নিঃশেষের পথে। ফলে নতুন কূপ খননে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার।
সংসদে উপস্থাপন হবে ১০ বছরের রূপরেখা
সরকার আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধিদের আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে বলেছেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমেই এর বাস্তবায়ন শুরু করার কথা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদি একটি নীতিকাঠামোর মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা কমানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।
সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি
পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য সাধারণ মানুষ ও জরুরি সেবা খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন খাতেও পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মাতারবাড়ীকে ঘিরে যে শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠছে, সেখানেও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়ছে গুরুত্ব
আমদানিনির্ভরতা কমানোর আরেকটি বড় উপায় হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো তৈরিতেও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোর উদ্যোগ
জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পুরোনো বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে চুক্তি না করার নীতিতে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’—অর্থাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে বিল পরিশোধ না করার মতো শর্তে যেসব কেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব, সেগুলো রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার যে আর্থিক চাপ রয়েছে, তা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
স্মার্ট গ্রিড ও আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষি ও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি
জ্বালানি পরিকল্পনায় কৃষি খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেচের মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনে উৎসাহ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সেচে ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর চাপ কমতে পারে। শিল্প খাতের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, জ্বালানি সংকটের কারণে যেন শিল্প উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়।
বেসরকারি বিনিয়োগকে গুরুত্ব
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতি অত্যন্ত বান্ধব, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। এই খাতের সংকট দূর করতে বেসরকারি বিনিয়োগ অপরিহার্য। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং সংশ্লিষ্টরা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছেন এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাংলানিউজকে জানান, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্যাস, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম অবকাঠামো শক্তিশালী করা হবে। তবে বেসরকারি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও বাজার ও দামের ওপর সরকারের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যাতে ভোক্তারা কোনোভাবেই প্রতারিত না হন।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়াত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবে বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসির মতো একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা বাধ্যতামূলক।
জ্বালানি বিশ্লেষক ইব্রাহীম কবির বাংলানিউজকে বলেন, এতদিন জ্বালানি খাতে কোনো মাস্টারপ্ল্যান ঠিকভাবে মানা হয়নি। এখন সরকার যদি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে ১০ বছরের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করে এবং দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগ দেয়, তাহলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
সরকারের প্রস্তাবিত ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনায় দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিকায়নের মতো একাধিক উদ্যোগ রয়েছে।
তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন, বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল নীতিমালা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের চুক্তিগত ও অবকাঠামোগত জটিলতা দূর করা।
পরিকল্পনাটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার পর বাস্তবায়ন হলে আগামী এক দশকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, সুশাসন, বিনিয়োগের স্বচ্ছতা এবং দেশীয় জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ওপর।
একটি মন্তব্য করুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * দিয়ে চিহ্নিত