জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির অকাল প্রয়াণে জাতি গভীরভাবে শোকাহত। তার স্মরণে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
এছাড়া শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে শহিদ ওসমান হাদির রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গাপুর সময় বুধবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আধিপত্যবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি। রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রথমে ঢামেক ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে সরকারিভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ওসমান হাদি। তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই তিনি হত্যার হুমকির কথা প্রকাশ করেছিলেন। গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, দেশি-বিদেশি একাধিক নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রচারে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে। তারা বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *