মৃত্যুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ভুলতে পারছে না সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনই তার কবরের পাশে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ চোখের পানি ফেলছেন, কেউ নীরবে দোয়া করছেন শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে আসেন ইসলামী বক্তা মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কাঁদতে কাঁদতে শহীদ হাদির জন্য দোয়া করেন।
এই হৃদয়বিদারক মুহূর্তের একটি ভিডিও সাংবাদিক শিপন হাবীব তার ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়—
“রাত ৩টা, শহীদ ওসমান হাদির সমাধিতে কান্না করছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।”
ভিডিওতে দেখা যায়, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়ার সময় সাইফুল্লাহর চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগেও বৃহস্পতিবার সারাদিন শহীদ হাদির কবরের পাশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ঢাকার বাইরে দূর-দূরান্ত থেকে এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির এই যোদ্ধা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং তা একটি আদর্শিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে—যার প্রভাব এখনো দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *