পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন দেশটির সাবেক পেসার ও জাতীয় নির্বাচক আকিব জাভেদ। তার মতে, ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খায়, যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিরিজের মাঝপথে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া এবং কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আকিব জাভেদ ২০০৯ সালের লাহোর হামলার প্রসঙ্গ সামনে আনেন।
২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের বহরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। শ্রীলঙ্কার কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার ও দলের কর্মকর্তারাও আহত হন। ঘটনার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশটির হোম সিরিজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করতে হয়।
আকিব জাভেদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় পাকিস্তানের ক্রিকেট অবকাঠামোও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। জাতীয় একাডেমি, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও মাঠগুলোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি মানসম্মত উইকেট তৈরিতেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা কোনো একটি সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো একজন পিসিবি চেয়ারম্যানের পরিবর্তনের ফল নয়। বরং ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর ধরে অবহেলা করার ফল এখন সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের ক্রিকেট সংকটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন আকিব। তার মতে, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের বিপুল অর্থ ও গ্ল্যামারের কারণে অনেক ক্রিকেটারের মনোযোগ টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছে।
বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দেরও নিয়মিত চার দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যতে এই সমস্যা মোকাবিলায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলেও জানান আকিব জাভেদ। তার মতে, কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্য চার দিনের প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
আকিবের বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটারদের নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সেরাটা দিতে চান, নাকি শুধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অর্থ ও জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে চান।
পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান দুরবস্থা থেকে বের হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, উন্নত অবকাঠামো এবং টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি ক্রিকেটারদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিতে হবে বলেই মনে করছেন দেশটির সাবেক এই পেসার।
একটি মন্তব্য করুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * দিয়ে চিহ্নিত