১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের ঘোষিত দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের জন্য। তিনি বলেন, জনগণের দাবিগুলো পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চারমাথা মোড়ে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এবং দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ হলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। একইভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার ও ন্যায্যমূল্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাদের রাস্তায় নামতে হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, জনগণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্যই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি দাবি করেন, এসব দাবি কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার তাদের আট দফা দাবি মেনে না নিলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়তে পারে। একপর্যায়ে সব দাবি এক দফায় পরিণত হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি সরকারকে দাবিগুলো বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার অপেক্ষা করছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের জন্য সারাদেশের মানুষকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-তেল ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
পলাশবাড়ীর পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।
লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় শফিকুর রহমান আট দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কথা জানান।
একটি মন্তব্য করুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * দিয়ে চিহ্নিত