🔴 সর্বশেষ

প্রতিদিন বাংলা | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ, জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক খবর

Header
collapse
...

বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন!

আগ 23, 2026  প্রতিদিন বাংলা  11 views
বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন!

বাথরুমে কেন বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

স্ট্রোক সাধারণত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে। আবার কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও স্ট্রোক হতে পারে। শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। কিছু পরিস্থিতিতে বাথরুমেও এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে।

ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত বাথরুমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ—এসব কারণে শরীরে রক্তচাপের আকস্মিক পরিবর্তন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাথরুমে গেলেই স্ট্রোক হবে। বরং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি বাড়তি সতর্কতার দাবি রাখে।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে রক্তনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে। একইভাবে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা রক্তচাপের দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে সময় না দিয়ে দ্রুত চলাফেরা করলেও রক্তচাপের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি থাকা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং পরিবারের কারও স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে সামগ্রিকভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও ঝুঁকির একটি কারণ।

বাথরুমে কীভাবে সতর্ক থাকবেন

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, তাদের খুব ঠান্ডা পানিতে হঠাৎ গোসল না করাই ভালো। পানি ঠান্ডা হলে প্রথমে পা ও শরীরের নিচের অংশে পানি দিয়ে ধীরে ধীরে শরীরের ওপরের অংশ এবং শেষে মাথায় পানি দেওয়া যেতে পারে।

বাথরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি রাখার দিকে নজর দিতে হবে।

ঘুম থেকে ওঠার পরও হঠাৎ উঠে দৌড়ে বাথরুমে না গিয়ে কিছুক্ষণ বিছানায় বা পাশে বসে থাকা ভালো। এরপর ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে হাঁটলে রক্তচাপের আকস্মিক পরিবর্তনের ঝুঁকি কমতে পারে।

স্ট্রোক অত্যন্ত গুরুতর একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষা পেলেও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজের সময়ও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ: মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল/অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ দৃষ্টির সমস্যা বা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
 


Share:

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * দিয়ে চিহ্নিত

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy